কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫ এ ০৬:৪৮ AM

পটভূমি ও ইতিহাস

কন্টেন্ট: পাতা

কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ
প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা

একসময় নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে কুড়িগ্রাম মহকুমা (বর্তমান জেলা) ছিল অত্যন্ত অবহেলিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী কুড়িগ্রামের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ কুড়িগ্রামের কেন্দ্রে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ আগস্ট কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুড়িগ্রামের শিক্ষানুরাগী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কুড়িগ্রামের ২২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের নামকরণ হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত সিলেবাসে এ যাত্রা শুরু করেছিল কলেজটি।

প্রথমদিকে ১৯৭৩-১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে নবম ও প্রথম বর্ষ উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। নবম শ্রেণিতে ৭৫ জন ছাত্রী ভর্তি হয়ে পাঠ গ্রহণ শুরু করে। নবম শ্রেণিতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রীরা ড্রইং ও হোম ইকোনমিকস বিষয়ে বেসিক ট্রেনিং গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। আর প্রথম বর্ষ উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গার্লস গাইড রুম ব্যবহার করত।

১৯৭৩-১৯৭৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের ১৯৭৫ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। প্রথমবারের মতো এই কলেজের ১৫ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফলাফলের সময় দেখা যায় কুড়িগ্রাম মহকুমার আটটি কলেজের মধ্যে কলেজটি পাশের হারে প্রথম স্থান অর্জন করে এবং ৯০% উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব লাভ করে। এই নতুন কলেজটিতে ০১ জন প্রধান শিক্ষক, ০৪ জন খণ্ডকালীন প্রভাষক এবং ০৩ জন দপ্তরি ছিলেন। সোর্স অব ইনকাম ছিল ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থ এবং সরকারের অল্প পরিমাণ সাহায্য। প্রথমে শিক্ষা কার্যক্রম কুড়িগ্রাম সরকারি বিদ্যানিকেতন ভবনে অব্যাহত থাকলেও পরবর্তীতে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয় কলেজটি।

পরবর্তীতে ছাত্রীদের চাহিদার প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজের বিজ্ঞান শাখা খোলা হয় এবং মানে ০৬ জন ছাত্রী নিয়ে বিজ্ঞান শাখায় পাঠ শুরু করে। পরবর্তীতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজে ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। ১৯৮০ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হয়। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স চালু করা হয়। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে পদার্থবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, গণিত, সমাজবিজ্ঞান ও বাংলা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে চলমান অনার্স বিষয়সমূহের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং ডিগ্রি (পাস) শ্রেণিতে পাঠদান অব্যাহত থাকে। বর্তমানে কলেজটিতে ১৮৬৮ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ছাত্রীদের মেডিকেল, প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই কলেজটি নারী শিক্ষা বিস্তারে পথিকৃত হিসেবে কাজ করে আসছে।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন